মেয়েশিশু সুরক্ষায় প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন (পিএইচএবি)
June 10, 2024
'মেয়েশিশুদের সুরক্ষা : যেতে হবে বহুদূর' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গত ১ অক্টোবর ২০২২ শনিবার সকালেরাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে কালের কণ্ঠ, পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএইচএবি), মেরী স্টোপস বাংলাদেশ ও টিম অ্যাসোসিয়েটস। আলোচনায় সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি করণীয় বিষয়ে নানা সুপারিশ উঠে আসে। তারই সারসংক্ষেপ নিয়ে এই ক্রোড়পত্র।
গ্রন্থনা : সাইদ শাহীন ও ফাতিমা তুজ জোহরা ডানা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম
♦ বাল্যবিবাহ আইন সংশোধন ও জন্ম সনদ কার্যকর করা
♦ আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা বাধ্যতামূলক করা
♦ পুষ্টি, শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতা নিশ্চিত করা
♦ কন্যাশিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ
♦ সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো
♦ সরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় সাধন
♦ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন বেগবান করা
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার
অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন
শিশু অধিকার রক্ষায় অনেকগুলো মন্ত্রণালয় যুক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও তার অধীন বিভিন্ন বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, সব মন্ত্রণালয়ই যার যার মতো কাজ করছে।
মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকারে রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে এডোলেসেন্স কর্নার করা হয়েছে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের উদ্যোগ আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মেয়েশিশুর স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টির বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
গত দু্-তিন দশকে এ বিষয়ে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। শিশু পুষ্টির উন্নয়নে আরো বহুমুখী কাজ করতে হবে। এখন আমাদের জন্য বাল্যবিবাহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সামনের দিনে এই বিষয়গুলো নিয়ে যাতে আরো সময়োপযোগী সুপারিশ দিতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশু সুরক্ষার উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
বাল্যবিবাহের পক্ষে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কার রয়েছে। সেগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। সবগুলো বিষয় নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
বাড়িতে শিশুর জন্মগ্রহণ বন্ধ করতে হবে
ডা. মো. মাহমুদুর রহমান
গ্রাম পর্যায়ে হোম ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আরো বাড়াতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে প্রাইমারি হেলথ নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহ, বার বার সন্তান নিতে দেওয়া যাবে না। মাতৃমৃত্যু, অপূর্ণ চাহিদা, জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স—এই তিনটি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্য তিনটি কাউন্সেলিং করতে হবে—প্রথমত দেখতে হবে তার প্রিম্যারেটিয়াল অর্থাৎ বিয়ে করার যোগ্যতা আছে কি না; বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার ও ভরণ-পোষণের যোগ্যতা আছে কি না এবং সব শেষে প্রথম বাচ্চা নেওয়ার পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়ার জন্য মায়ের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না। একই সঙ্গে সরকার স্বাস্থ্য ও কমিউনিটি সেবা আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাম পর্যায়ে প্রাইমারি হেলথ নিশ্চিত করা। গ্রাম পর্যয়ে সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এই কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হোম ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। বাড়িতে সন্তান প্রসবের ফলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা আমাদের জন্য আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে সামাজিক আন্দোলন দরকার
অধ্যাপক আইনুন নাহার
কন্যাশিশুর সার্বিক অধিকার নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অধিকার অর্জিত হয় আইন এবং বিশেষ দিকের সামাজিক আন্দোলনের পর্যায়ে আসতে পারলে। আর এ জন্য সমাজের প্রত্যেক মানুষকে এক হতে হয়। কন্যাশিশুরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেটা নিরসনে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। আমাদের দেশের কন্যারা প্রাথমিক শিক্ষায় এগিয়ে আছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নারীশিক্ষা ৫০ শতাংশের ওপরে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নারী শিক্ষার্থীর হার কমতে শুরু করে। করোনাকালে বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ঝরে পড়েছে অনেক শিশু। এর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন দিকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তবে এটাতেই যেন আমরা খুশি না হয়ে পড়ি। এটাকেই যেন আমাদের গন্তব্য হিসেবে ধরে না নিই। নারীর জীবনে কেন্দ্র হিসেবে আমরা ধরে নিই বিয়ে। আমাদের এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা ছাড়িয়ে আরো কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন টয়লেটের সুবিধা বাড়াতে হবে
ডা. ফারহানা আহমেদ
বাল্যবিবাহ কন্যাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এ জন্য সব বিয়েকেই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে বাল্যবিবাহ অনেক কমে যাবে। আর পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্যজনিত বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করতে হবে। স্কুলে মেয়েদের জন্য পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ যাবতীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে। মেয়েদের স্বাস্থ্যের এই দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্রেগন্যান্সি যখন হচ্ছে, সেটা যেন আরো পরে হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। তাহলে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনিত বিষয় মোকাবেলা করা যাবে। এ জন্য কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ওপর জ্ঞান ও ধারণা থাকতে হবে। পাশাপাশি যেসব আইন তাদের নিরাপত্তা দেবে, তা সম্পর্কে জানাতে হবে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে।
আইন-নীতিমালা যথেষ্ট আছে প্রয়োগ দরকার
ডা. এস এম শহীদুল্লাহ্
আমাদের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সমস্যা আছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মহিলা ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সুধীসমাজ ও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। কন্যাশিশুর অধিকার আদায়ে এবং সার্বিক সমস্যা নিরসনে আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের আইন-নীতিমালা আছে, কিন্তু প্রয়োগ করতে হবে। কন্যাশিশু সুরক্ষায় আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে। নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধিকারবঞ্চিত কন্যাশিশুর ব্যথা কি আমরা অনুভব করছি?
ড. হালিদা হানুম আখতার
বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে সে সারাটা জীবন অসুস্থতা বয়ে বেড়ায়। মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যায়। ওই মেয়েটা যতটা ব্যথা পায়, আমরা কি ততটা ব্যথা পাই? আমরা কি সেই ব্যথা অনুভব করছি? আমাদেরও সেই একই রকম ব্যথা পেতে হবে। তাহলেই অনুভব করতে পারব প্রধানতম সমস্যাটা কোথায়। আমরা সবাই জানি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলছিও। কিন্তু এতটুকুই। কারো কিছু আসে-যায় না। আমরা বাইরে গিয়ে সুন্দর কথা বলে আসি, বিশ-বাইশ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেব। আসলে বাস্তবতা তা নয়। কথা দিলে কথা রাখতে হবে। আমাদের নিজেদের মেয়েদের জন্য হলেও কিছু করতে হবে। কোনো লং টার্ম ইমপ্লিমেন্ট নেই। কিছুদিন কাজ করে চলে যায়। ওখানেই বিষয়টা শেষ হয়ে যায়। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনেক আশা। এসংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমের কাজ করার অনুরোধ থাকবে।
গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে
ডা. আবু জামিল ফয়সাল
আজকের অনুষ্ঠানের সুপারিশগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও শিশুদের নির্যাতন বন্ধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং সহিংসতা বন্ধে সুধীসমাজকে আরো তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, অভিভাবক, স্কুল, শিক্ষক, ছাত্রদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করতে হবে। আজকের কন্যাশিশুদের আগামী দিনে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। এ বিষয়টি সামনে রেখে সর্বোপরি গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
চাই সমন্বিত উদ্যোগের বাস্তবায়ন
মনজুন নাহার
দেশের কন্যাশিশু সুরক্ষায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এটির কার্যকর বাস্তবায়নও করতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। সমাজের বিদ্যমান সংস্কৃতি, আচরণ, পরিবর্তন, তার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সুশাসন ও আইনের প্রয়োগ একান্ত জরুরি। কোনো একটা সূচক নিয়ে কাজ করলে তার উপযুক্ত সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকবে। আমাদের দেশে কিশোরীদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা কঠিন। তারা নাজুক অবস্থায় আছে। একটি কার্যকর উপায়ে আমাদের এগোতে হবে। সবচেয়ে বেশি জরুরি একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা। যৌথ কাজের কোনো বিকল্প নেই। তাহলে কিশোরীদের অধিকার ও সমতার বিকাশ লাভ করবে।
বাল্যবিবাহ মানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন
অধ্যাপক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন
বাল্যবিবাহের কারণে একসঙ্গে অনেকগুলা বিষয় ঘটছে। তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। এটা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে প্রভাব ফেলছে। জনসখ্যা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা জনশক্তিতে যুক্ত হতে পারছে না। শিশু অবস্থায় মাতৃত্ব শিশু ও মাতৃমৃত্যু বাড়াচ্ছে।
বলা হয় বাল্যবিবাহের কারণ দারিদ্র্য। কিন্তু এটাকেই যদি জেন্ডারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে দারিদ্র মা-বাবা মেয়েশিশুটিকে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন। কিন্তু ছেলেসন্তানকে সব সময় অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন না। এখানে মা শিক্ষিত হলে পরিবর্তন আসতে পারে।
কভিডের কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়েছে। ২০২১ সালে ১৫ বছরের নিচে ১৫ শতাংশ বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। খুব সামান্য পরিমাণ বাল্যবিবাহ কমেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন মেয়ের বাল্যবিবাহ মানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ লিঙ্গসমতা। দরিদ্র পরিবারে মেয়েসন্তান বিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ছেলেসন্তানের ওপর বিনিয়োগ করছে। এই মানসিক প্রবণতা যে ছেলেকে পড়াতে হবে। পরিবারে মায়ের শিক্ষা বেশি জরুরি বাবার চেয়ে। মা শিক্ষিত হলে সে ক্ষেত্রে বাচ্চাকে শিক্ষার প্রয়োজনীতা বেশি অনুভব করে। সরকারকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে
অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন
অভিভাবকরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে নজর দেন না। মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিভাবকরা এ বিষয়টি বুঝতেই চান না। অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন তাঁদের সন্তান প্রতিবছর জিপিএ ৫ পেল কি না। বয়স হচ্ছে শারীরিক গঠন ঠিক আছে কি না, এসব নিয়ে ভাবেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একেবারেই ভাবেন না। কিন্তু মানসিক সমস্যার শুরু হয় ঘর থেকেই। যখন পিতামাতারা ভাবেন ছেলেসন্তান হবে, আর মেয়েসন্তান হয়, তখন সমস্যার শুরু হয়। কারণ পিতামাতারা আগেই ধরে নিয়েছিলেন পুত্রসন্তান হবে, যখন কন্যাসন্তান হয়, তাঁরা খুশি হন না। একটি মেয়ের জীবনে তখন থেকেই মানসিক সমস্যার শুরুটা হয়। পিতামাতারা কন্যাশিশুকে কন্যাশিশুই ভাবেন, শিশু ভাবেন না। তার শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষায় তার পূর্ণতা পায় না। একটি কন্যাশিশুর সব সময় বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন হয়, কিন্তু সেখানেও বৈষম্য দেখা যায়।
একটি ছেলেশিশুকে স্বাস্থ্য শিক্ষা থেকে শুরু করে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, একটি মেয়েশিশুর বেলায় সর্বোচ্চ বৈষম্য চলতে থাকে। এতে ন্যায্যতা ও অধিকার দেওয়া হয় না। পরিবার থেকেই যে শিশু বৈষম্যের শিকার সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আরো কঠিন। সার্বিক সমতার জন্য ছেলে-মেয়ের সমতা নিয়ে আসতে হবে। পরিবার থেকে এর চর্চা শুরু করতে হবে। ছেলে ও মেয়েকে আলাদা ভাবা বন্ধ করতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিতে এক হিসেবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের মনন ও চিন্তায় পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সাম্য এবং সম্মানের।
বাল্যবিবাহ বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করতে হবে
অধ্যাপক ডা. এম এস এ মনসুর আহমদ
অনেক এলাকায় কন্যাশিশুকে মামা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইদানীং ওয়াজ মাহফিলে যে সব বয়ান দেওয়া হয় সেগুলো বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করার শামিল। বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে দিয়ে দিন। এসব নিয়ে কাউকে কোনো কথা বলতে দেখা যায় না। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টিজনিত সমস্যার মূলে বাল্যবিবাহ। এসব নিয়ে কথা বলতে হবে। সচেতনতার কাজ করতে হবে। সরকারপ্রধান থেকে সব ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের সমতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
কন্যাশিশুর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে
ড. মো. তাজউদ্দীন সিকদার
মেয়েশিশুদের প্রতি সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক দিন থেকে। আরো বেড়েছে। এই সহিংসতা-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিগৃহীত। সহিংসতার আগে ও পরে দুটি ভাগ আছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, সহিংসতার পরে শারীরিক বিষয়টির পাশাপাশি মানসিক দিকটিও ভীষণভাবে ভেঙে পড়ে। ফ্যামিলি, স্কুল ও সোসাইটি থেকে কেউ তার মানসিক বিষয়টি খেয়াল করেনি। মানসিক শিক্ষার দিকে নজর দেওয়া হয় না। আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শিক্ষক ও ছাত্র উভয়কেই কাউন্সেলিং করতে হবে। তাদের শেখাতে হবে—এটা করা যাবে, এটা করা যাবে না। আর সমাজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কন্যাশিশুদের সুরক্ষার জন্য যেসব গবেষণা করা দরকার তার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু সেটার জন্য কোনো ফান্ড নেই, কারো আগ্রহ নেই। পলিসি মেকাররাও সহোযোগিতা করছেন না। কিংবা আমরা বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। এসব খাতে গবেষণার জন্য অর্থায়নও করা হচ্ছে না। ফলে দেশের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও রূপান্তরগুলো উঠে আসছে না।
পরিবার নিরাপদ না হলে শ্বশুরবাড়িও নিরাপদ হবে না
রোমেন রায়হান
মেয়েশিশুকে আলাদা যত্ন নিতে হবে। পরিবারে একটি মেয়েশিশুর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছেলে নয়, বরং একটি মেয়েই মা-বাবাকে বৃদ্ধকালে দেখাশোনা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অভিভাবকরা মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। পরিবারে নিরাপত্তা না পেলে শ্বশুরবাড়ি কিভাবে নিরাপত্তা পাবে সেটি প্রশ্ন থাকে। অনেক মা-বাবাই বলেন, বখাটের ইভ টিজিং থেকে বাঁচাতে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন চ্যানেলে যে ধরনের নাটক-সিনেমা প্রচার করা হয়, সেটা থেকে একটা ভুল বার্তা যায়। মেয়েরা ভাবতে শুরু করে, বিয়ের পর তাদের জীবন নাটক-সিনেমার মতো হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কাউন্সেলিং করতে হবে মেয়ে এবং মা-বাবাকে। মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য স্কুলে কারিকুলামের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারি। এখন স্কুলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারিকুলাম কমে গেছে। সেখানে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। অনুপ্রাণিত করার মতো বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। এতে তারা বড় হয়ে কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। কন্যাদের পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে হবে। আত্মহত্যা বাড়ছে এজন্য কাউন্সিলিং করতে হবে।
আমাদের শেখানো হয়নি, প্রতিরোধের উপায় বলা হয়নি
মাহিয়া মেহেরাব পূর্ণাভা
রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে, কিংবা কিছু করতে গেলেই ভয়ে থাকতে হয়। বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। সবচেয়ে বড় ভয় সমাজের কথার। চাইলেও একটা মেয়ে কিছু করতে পারে না। যখন নিজের ক্লাসমেটকে দেখি বিয়ে ও বাচ্চা লালন-পালনের জন্য পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে যাই। বলার কিছুই থাকে না। এর সমাধান কী হবে ভেবে পাই না। কে দিতে পারে এর সমাধান। যৌন হয়রানি হলেও আমরা বলতে পারি না। সেই জায়গাটাও আমাদের নেই। আমাদের শেখানো হয়নি, তোমার সাথে কিছু খারাপ হলে প্রতিবাদ করো। ছোট যারা আছে তারাও চুপ করে থাকে। এসব বিষয় অনাকাঙ্ক্ষিত।
কন্যাশিশুর সুরক্ষার বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
কন্যাশিশু সুরক্ষায় আগে কন্যাশিশুদের সমস্যার গভীরতাগুলো জানা প্রয়োজন। এখানে তথ্যবিভ্রাট একটি বড় বাধা। নানা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এর একটি কারণ হতে পারে। আবার এখন যে কাজ হচ্ছে তার গুণগত মান নিয়েও ভাবার সময় এসেছে। কন্যাশিশু সুরক্ষার বিষয়ে যেসব জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেগুলো অর্জন করতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন। কন্যাশিশুদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে সামাজিক অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে গণমাধ্যম হিসেবে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব। এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
গ্রন্থনা : সাইদ শাহীন ও ফাতিমা তুজ জোহরা ডানা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম
♦ বাল্যবিবাহ আইন সংশোধন ও জন্ম সনদ কার্যকর করা
♦ আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা বাধ্যতামূলক করা
♦ পুষ্টি, শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতা নিশ্চিত করা
♦ কন্যাশিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ
♦ সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো
♦ সরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় সাধন
♦ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন বেগবান করা
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার
অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন
শিশু অধিকার রক্ষায় অনেকগুলো মন্ত্রণালয় যুক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও তার অধীন বিভিন্ন বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, সব মন্ত্রণালয়ই যার যার মতো কাজ করছে।
মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকারে রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে এডোলেসেন্স কর্নার করা হয়েছে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের উদ্যোগ আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মেয়েশিশুর স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টির বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
গত দু্-তিন দশকে এ বিষয়ে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। শিশু পুষ্টির উন্নয়নে আরো বহুমুখী কাজ করতে হবে। এখন আমাদের জন্য বাল্যবিবাহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সামনের দিনে এই বিষয়গুলো নিয়ে যাতে আরো সময়োপযোগী সুপারিশ দিতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশু সুরক্ষার উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
বাল্যবিবাহের পক্ষে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কার রয়েছে। সেগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। সবগুলো বিষয় নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
বাড়িতে শিশুর জন্মগ্রহণ বন্ধ করতে হবে
ডা. মো. মাহমুদুর রহমান
গ্রাম পর্যায়ে হোম ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আরো বাড়াতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে প্রাইমারি হেলথ নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহ, বার বার সন্তান নিতে দেওয়া যাবে না। মাতৃমৃত্যু, অপূর্ণ চাহিদা, জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স—এই তিনটি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্য তিনটি কাউন্সেলিং করতে হবে—প্রথমত দেখতে হবে তার প্রিম্যারেটিয়াল অর্থাৎ বিয়ে করার যোগ্যতা আছে কি না; বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার ও ভরণ-পোষণের যোগ্যতা আছে কি না এবং সব শেষে প্রথম বাচ্চা নেওয়ার পর দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়ার জন্য মায়ের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না। একই সঙ্গে সরকার স্বাস্থ্য ও কমিউনিটি সেবা আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাম পর্যায়ে প্রাইমারি হেলথ নিশ্চিত করা। গ্রাম পর্যয়ে সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এই কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হোম ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। বাড়িতে সন্তান প্রসবের ফলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাচ্ছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা আমাদের জন্য আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে সামাজিক আন্দোলন দরকার
অধ্যাপক আইনুন নাহার
কন্যাশিশুর সার্বিক অধিকার নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অধিকার অর্জিত হয় আইন এবং বিশেষ দিকের সামাজিক আন্দোলনের পর্যায়ে আসতে পারলে। আর এ জন্য সমাজের প্রত্যেক মানুষকে এক হতে হয়। কন্যাশিশুরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেটা নিরসনে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। আমাদের দেশের কন্যারা প্রাথমিক শিক্ষায় এগিয়ে আছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নারীশিক্ষা ৫০ শতাংশের ওপরে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নারী শিক্ষার্থীর হার কমতে শুরু করে। করোনাকালে বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ঝরে পড়েছে অনেক শিশু। এর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন দিকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তবে এটাতেই যেন আমরা খুশি না হয়ে পড়ি। এটাকেই যেন আমাদের গন্তব্য হিসেবে ধরে না নিই। নারীর জীবনে কেন্দ্র হিসেবে আমরা ধরে নিই বিয়ে। আমাদের এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা ছাড়িয়ে আরো কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন টয়লেটের সুবিধা বাড়াতে হবে
ডা. ফারহানা আহমেদ
বাল্যবিবাহ কন্যাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এ জন্য সব বিয়েকেই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে বাল্যবিবাহ অনেক কমে যাবে। আর পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্যজনিত বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করতে হবে। স্কুলে মেয়েদের জন্য পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ যাবতীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে। মেয়েদের স্বাস্থ্যের এই দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্রেগন্যান্সি যখন হচ্ছে, সেটা যেন আরো পরে হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। তাহলে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনিত বিষয় মোকাবেলা করা যাবে। এ জন্য কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ওপর জ্ঞান ও ধারণা থাকতে হবে। পাশাপাশি যেসব আইন তাদের নিরাপত্তা দেবে, তা সম্পর্কে জানাতে হবে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে।
আইন-নীতিমালা যথেষ্ট আছে প্রয়োগ দরকার
ডা. এস এম শহীদুল্লাহ্
আমাদের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সমস্যা আছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মহিলা ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সুধীসমাজ ও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। কন্যাশিশুর অধিকার আদায়ে এবং সার্বিক সমস্যা নিরসনে আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের আইন-নীতিমালা আছে, কিন্তু প্রয়োগ করতে হবে। কন্যাশিশু সুরক্ষায় আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে। নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধিকারবঞ্চিত কন্যাশিশুর ব্যথা কি আমরা অনুভব করছি?
ড. হালিদা হানুম আখতার
বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে সে সারাটা জীবন অসুস্থতা বয়ে বেড়ায়। মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যায়। ওই মেয়েটা যতটা ব্যথা পায়, আমরা কি ততটা ব্যথা পাই? আমরা কি সেই ব্যথা অনুভব করছি? আমাদেরও সেই একই রকম ব্যথা পেতে হবে। তাহলেই অনুভব করতে পারব প্রধানতম সমস্যাটা কোথায়। আমরা সবাই জানি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলছিও। কিন্তু এতটুকুই। কারো কিছু আসে-যায় না। আমরা বাইরে গিয়ে সুন্দর কথা বলে আসি, বিশ-বাইশ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেব। আসলে বাস্তবতা তা নয়। কথা দিলে কথা রাখতে হবে। আমাদের নিজেদের মেয়েদের জন্য হলেও কিছু করতে হবে। কোনো লং টার্ম ইমপ্লিমেন্ট নেই। কিছুদিন কাজ করে চলে যায়। ওখানেই বিষয়টা শেষ হয়ে যায়। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনেক আশা। এসংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমের কাজ করার অনুরোধ থাকবে।
গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে
ডা. আবু জামিল ফয়সাল
আজকের অনুষ্ঠানের সুপারিশগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও শিশুদের নির্যাতন বন্ধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং সহিংসতা বন্ধে সুধীসমাজকে আরো তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, অভিভাবক, স্কুল, শিক্ষক, ছাত্রদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করতে হবে। আজকের কন্যাশিশুদের আগামী দিনে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। এ বিষয়টি সামনে রেখে সর্বোপরি গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
চাই সমন্বিত উদ্যোগের বাস্তবায়ন
মনজুন নাহার
দেশের কন্যাশিশু সুরক্ষায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এটির কার্যকর বাস্তবায়নও করতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের। সমাজের বিদ্যমান সংস্কৃতি, আচরণ, পরিবর্তন, তার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সুশাসন ও আইনের প্রয়োগ একান্ত জরুরি। কোনো একটা সূচক নিয়ে কাজ করলে তার উপযুক্ত সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকবে। আমাদের দেশে কিশোরীদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা কঠিন। তারা নাজুক অবস্থায় আছে। একটি কার্যকর উপায়ে আমাদের এগোতে হবে। সবচেয়ে বেশি জরুরি একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা। যৌথ কাজের কোনো বিকল্প নেই। তাহলে কিশোরীদের অধিকার ও সমতার বিকাশ লাভ করবে।
বাল্যবিবাহ মানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন
অধ্যাপক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন
বাল্যবিবাহের কারণে একসঙ্গে অনেকগুলা বিষয় ঘটছে। তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। এটা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে প্রভাব ফেলছে। জনসখ্যা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা জনশক্তিতে যুক্ত হতে পারছে না। শিশু অবস্থায় মাতৃত্ব শিশু ও মাতৃমৃত্যু বাড়াচ্ছে।
বলা হয় বাল্যবিবাহের কারণ দারিদ্র্য। কিন্তু এটাকেই যদি জেন্ডারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে দারিদ্র মা-বাবা মেয়েশিশুটিকে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন। কিন্তু ছেলেসন্তানকে সব সময় অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন না। এখানে মা শিক্ষিত হলে পরিবর্তন আসতে পারে।
কভিডের কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়েছে। ২০২১ সালে ১৫ বছরের নিচে ১৫ শতাংশ বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। খুব সামান্য পরিমাণ বাল্যবিবাহ কমেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন মেয়ের বাল্যবিবাহ মানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ লিঙ্গসমতা। দরিদ্র পরিবারে মেয়েসন্তান বিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ছেলেসন্তানের ওপর বিনিয়োগ করছে। এই মানসিক প্রবণতা যে ছেলেকে পড়াতে হবে। পরিবারে মায়ের শিক্ষা বেশি জরুরি বাবার চেয়ে। মা শিক্ষিত হলে সে ক্ষেত্রে বাচ্চাকে শিক্ষার প্রয়োজনীতা বেশি অনুভব করে। সরকারকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে
অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন
অভিভাবকরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে নজর দেন না। মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিভাবকরা এ বিষয়টি বুঝতেই চান না। অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন তাঁদের সন্তান প্রতিবছর জিপিএ ৫ পেল কি না। বয়স হচ্ছে শারীরিক গঠন ঠিক আছে কি না, এসব নিয়ে ভাবেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একেবারেই ভাবেন না। কিন্তু মানসিক সমস্যার শুরু হয় ঘর থেকেই। যখন পিতামাতারা ভাবেন ছেলেসন্তান হবে, আর মেয়েসন্তান হয়, তখন সমস্যার শুরু হয়। কারণ পিতামাতারা আগেই ধরে নিয়েছিলেন পুত্রসন্তান হবে, যখন কন্যাসন্তান হয়, তাঁরা খুশি হন না। একটি মেয়ের জীবনে তখন থেকেই মানসিক সমস্যার শুরুটা হয়। পিতামাতারা কন্যাশিশুকে কন্যাশিশুই ভাবেন, শিশু ভাবেন না। তার শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষায় তার পূর্ণতা পায় না। একটি কন্যাশিশুর সব সময় বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন হয়, কিন্তু সেখানেও বৈষম্য দেখা যায়।
একটি ছেলেশিশুকে স্বাস্থ্য শিক্ষা থেকে শুরু করে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, একটি মেয়েশিশুর বেলায় সর্বোচ্চ বৈষম্য চলতে থাকে। এতে ন্যায্যতা ও অধিকার দেওয়া হয় না। পরিবার থেকেই যে শিশু বৈষম্যের শিকার সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আরো কঠিন। সার্বিক সমতার জন্য ছেলে-মেয়ের সমতা নিয়ে আসতে হবে। পরিবার থেকে এর চর্চা শুরু করতে হবে। ছেলে ও মেয়েকে আলাদা ভাবা বন্ধ করতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিতে এক হিসেবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের মনন ও চিন্তায় পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সাম্য এবং সম্মানের।
বাল্যবিবাহ বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করতে হবে
অধ্যাপক ডা. এম এস এ মনসুর আহমদ
অনেক এলাকায় কন্যাশিশুকে মামা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইদানীং ওয়াজ মাহফিলে যে সব বয়ান দেওয়া হয় সেগুলো বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করার শামিল। বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে দিয়ে দিন। এসব নিয়ে কাউকে কোনো কথা বলতে দেখা যায় না। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টিজনিত সমস্যার মূলে বাল্যবিবাহ। এসব নিয়ে কথা বলতে হবে। সচেতনতার কাজ করতে হবে। সরকারপ্রধান থেকে সব ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের সমতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
কন্যাশিশুর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে
ড. মো. তাজউদ্দীন সিকদার
মেয়েশিশুদের প্রতি সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক দিন থেকে। আরো বেড়েছে। এই সহিংসতা-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিগৃহীত। সহিংসতার আগে ও পরে দুটি ভাগ আছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, সহিংসতার পরে শারীরিক বিষয়টির পাশাপাশি মানসিক দিকটিও ভীষণভাবে ভেঙে পড়ে। ফ্যামিলি, স্কুল ও সোসাইটি থেকে কেউ তার মানসিক বিষয়টি খেয়াল করেনি। মানসিক শিক্ষার দিকে নজর দেওয়া হয় না। আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শিক্ষক ও ছাত্র উভয়কেই কাউন্সেলিং করতে হবে। তাদের শেখাতে হবে—এটা করা যাবে, এটা করা যাবে না। আর সমাজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কন্যাশিশুদের সুরক্ষার জন্য যেসব গবেষণা করা দরকার তার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু সেটার জন্য কোনো ফান্ড নেই, কারো আগ্রহ নেই। পলিসি মেকাররাও সহোযোগিতা করছেন না। কিংবা আমরা বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। এসব খাতে গবেষণার জন্য অর্থায়নও করা হচ্ছে না। ফলে দেশের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও রূপান্তরগুলো উঠে আসছে না।
পরিবার নিরাপদ না হলে শ্বশুরবাড়িও নিরাপদ হবে না
রোমেন রায়হান
মেয়েশিশুকে আলাদা যত্ন নিতে হবে। পরিবারে একটি মেয়েশিশুর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছেলে নয়, বরং একটি মেয়েই মা-বাবাকে বৃদ্ধকালে দেখাশোনা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অভিভাবকরা মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। পরিবারে নিরাপত্তা না পেলে শ্বশুরবাড়ি কিভাবে নিরাপত্তা পাবে সেটি প্রশ্ন থাকে। অনেক মা-বাবাই বলেন, বখাটের ইভ টিজিং থেকে বাঁচাতে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন চ্যানেলে যে ধরনের নাটক-সিনেমা প্রচার করা হয়, সেটা থেকে একটা ভুল বার্তা যায়। মেয়েরা ভাবতে শুরু করে, বিয়ের পর তাদের জীবন নাটক-সিনেমার মতো হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কাউন্সেলিং করতে হবে মেয়ে এবং মা-বাবাকে। মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য স্কুলে কারিকুলামের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারি। এখন স্কুলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারিকুলাম কমে গেছে। সেখানে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। অনুপ্রাণিত করার মতো বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। এতে তারা বড় হয়ে কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখবে। কন্যাদের পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে হবে। আত্মহত্যা বাড়ছে এজন্য কাউন্সিলিং করতে হবে।
আমাদের শেখানো হয়নি, প্রতিরোধের উপায় বলা হয়নি
মাহিয়া মেহেরাব পূর্ণাভা
রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে, কিংবা কিছু করতে গেলেই ভয়ে থাকতে হয়। বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। সবচেয়ে বড় ভয় সমাজের কথার। চাইলেও একটা মেয়ে কিছু করতে পারে না। যখন নিজের ক্লাসমেটকে দেখি বিয়ে ও বাচ্চা লালন-পালনের জন্য পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে যাই। বলার কিছুই থাকে না। এর সমাধান কী হবে ভেবে পাই না। কে দিতে পারে এর সমাধান। যৌন হয়রানি হলেও আমরা বলতে পারি না। সেই জায়গাটাও আমাদের নেই। আমাদের শেখানো হয়নি, তোমার সাথে কিছু খারাপ হলে প্রতিবাদ করো। ছোট যারা আছে তারাও চুপ করে থাকে। এসব বিষয় অনাকাঙ্ক্ষিত।
কন্যাশিশুর সুরক্ষার বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
কন্যাশিশু সুরক্ষায় আগে কন্যাশিশুদের সমস্যার গভীরতাগুলো জানা প্রয়োজন। এখানে তথ্যবিভ্রাট একটি বড় বাধা। নানা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এর একটি কারণ হতে পারে। আবার এখন যে কাজ হচ্ছে তার গুণগত মান নিয়েও ভাবার সময় এসেছে। কন্যাশিশু সুরক্ষার বিষয়ে যেসব জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেগুলো অর্জন করতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন। কন্যাশিশুদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে সামাজিক অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে গণমাধ্যম হিসেবে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব। এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।